গণ ভোট কি-গণ ভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

গণ ভোট কি? তা এখনো অনেকে জানেনা। তাই যারা গণভোট সম্পর্কে জানতে চান তারা আমাদের আর্টিকেল টি ধৈর্য সহকারে পড়ুন। এই আর্টিকেল আমার জানবো গণ ভোট কী ? এবং গণ ভোট প্রথম চালু করে কে।

হ্যাঁ-এবং-না-ভোট-সর্ম্পকে-বিস্তারিত-জানুন

কিজন্য গণ ভোট দেয়া হয় এবং বাংলাদেশ কতবার ভোট হয়েছে এবং এবারে গণ ভোটের বিষয় বস্তু কি? সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। 

পোস্ট সূচিপত্র ঃ গণ ভোট কি? গণ ভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা 

গণ ভোট কি? গণ ভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা 

গণ ভোট কি তা নিয়ে অনেকের জানার আগ্রহ রয়েছে। কারন আসন্ন ত্রয়োদশ সংশোধনী নির্বাচনের সাথে গণ ভোট যুক্ত করা হয়েছে। গণ ভোট হচ্ছে হ্যাঁ বা না ভোট।কোনো বিষয়ের পক্ষে জনোগণের সম্মতি আছে কি না সে বিষয়ের উপর জনগণের দ্বারা সরাসরি ভোট হচ্ছে গণভোট।

অর্থাৎ রাষ্ট্রের কোনো  নতুন আইন  বা নীতি যুক্ত করা হলে বা কোনো নীতি তুলে দেয়া হলে জণগণের মতামত যাচাই করার জন্য সরাসরি ভোট গ্রহণ পদ্ধতি হচ্ছে গণভোট।  ইংরেজি রেফারেন্তাম এর প্রতিশব্দ গণভোট।  ফ্রান্সের ভিন্ন ধরনের এক গণ ভোট হয় যার নাম প্লেবিসাইট। বেবি সাইট মূলত জনগণের সরাসরি অনুমোদনের বা প্রত্যাখ্যানের নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় 

গণ ভোট কোন দেশে প্রথম চালু হয় 

ইতিহাসে প্রথম গণভোট শুরু হয় ১৭৯৩ সালে ফ্রান্সে। মূলত কোনো বিষয়ে নাগরিকদের মতামত যাচাই করার জন্য গণভোট চালু হয়েছিল। গণভোট হল হ্যাঁ এবং না এর ভোট। কোন বিষয়ের জনগণের মতামত থাকলে হ্যাঁ ভোট দিবে  এবং কোন বিষয়ের জনগণের মতামত না হলে  না ভোট দিবে। এটাই হলো মূলত গণভোট। 

বাংলাদেশের গণ ভোটের ইতিহাস

বাংলাদেশের প্রথম গণভোট চালু হয় ১৯৭৭ সালে ৩০ মে। বাংলাদেশে গণভোট হয়েছে মোট তিন বার। দুটি ছিল প্রশাসনিক এবং একটি সাংবিধানিক। প্রথম গণভোট হয় জিয়াউর রহমানের শাসন কাজের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য। এরপর ২য় গণভোট হয় ১৯৮৫ সালে ২১ মার্চ সামরিক আইন প্রশাসক মুহাম্মদ এরশাদের নীতি  ও কর্ম সূচির বৈধতা যাচাই করার জন্য। 

৩য় গণভোট হয় ১৯৯০ সালে ৯ ডিসেম্বর। মুহাম্মদ এরশাদের ১৬ বছর রাষ্ট্রপ্রতি শাসন ব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসন ব্যবস্থার জন্য। ১৯৯১ সালে ৬ আগস্ট সংসদে বিল পাস হয় এবং ঐ একই বছর ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের এবারের গণ ভোটের কারণ 

পাঁচই আগস্ট সরকার পতনের পর এবার কিছু সংস্করণের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে  গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সংবিধানের কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে জনগণ যদি এসব পরিবর্তন চাই তবে হ্যাঁ ভোট দেবে আর যদি না চাই তবে না ভোট দিবে। 

হ্যাঁ ভোট দিলে যেসব পরিবর্তনগুলো পাবেন তা নজরে দেখে নিন : 
  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন  গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। 
  • সরকারি দল ইচ্ছামত সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। 
  • সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে। 
  • বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। 
  • যত মেয়াতেই হোক কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। 
  • সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে। 
  • ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চ কক্ষ গঠিত হবে। 
  • দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। 
  • আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ করা যাবে না)  বাড়বে। 
  • দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী কে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামত ক্ষমা করতে পারবেন না। 
  • রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। 
এবার হ্যাঁ না  ভোট দেয়া আপনার সিদ্ধান্ত। 

শেষ কথা : গণ ভোট  কি? গণ ভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। 

গণভোট কি তা নিয়ে উপর আমারা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আসাকরি আমাদের এই আর্টিকেল টি পড়ে বিস্তারিত জানতে পেড়ে ছেন। গণভোট মানে জনগণের মতামত কে প্রধান্য দেয়া। গণভোটের মাধ্যমে জণগণ তাদের মতামত হ্যাঁ না ভোটের মাধ্যমে জানাতে পারে। তাই দেখে শুনে জেনে বুঝে আমাদের ভোট দিতে হবে। ভোট দেয়া নাগরিকের গনতন্ত্রিক অধিকার। 

আর এবারের গণভোটে বেশ কিছু সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। তাই আপনার যদি সে সব সংস্করণ চান তবে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে  আর সংস্করণ না চায়লে না ভোট  দিতে হবে। সর্বপরি আমাদের পোস্টটি ভালো লাগলে পাশেথাকবেন। 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এএন আইটি কেয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url