খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। কালোজিরা হচ্ছে এক ধরনের মহৌষধ। সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায় তা জানবো আমরা আমাদের এই আর্টিকেলে। তাই কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে জানতে চাইলে আমাদের এই আর্টিকেলটি ধৈর্য সহকারে পড়ুন।
কালোজিরা এমন একটি পদার্থ যাতে সব রোগের নিরাময়ক রয়েছে এই একটি উপাদানে। কালোজিরা খেলে আরো কি কি উপকার পাওয়া যায় তা জানাবো আমাদের আর্টিকেলের বিস্তারিত আলোচনা।
সূচিপত্র: খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
- খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
- কালোজিরার সাথে মধু মিশ করে খাওয়ার উপকারিতা
- কালোজিরা খেলে যেসব অসুখ সারে
- কালোজিরা খেলে যেসব ক্যান্সার হয় না
- প্রতি ১০০ গ্রাম কালোজিরাতে যে পরিমাণ ভিটামিন থাকে
- প্রতিদিন যে পরিমাণ কালোজিরা খাওয়া উচিত
- কালোজিরা খাওয়ার অপকারিতা
- সর্বশেষ খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা।
খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতার কথা শুনে অনেকে অবাক হবেন কিন্তু অবাক হয়ার কিছুই নাই। প্রাচীন কাল থেকেই কালোজিরাকে সকল রোগ নিরাময়ের কাজে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। তাই কালোজিরাকে সকল রোগের মহৌষধ বলা হয়। ইসলাম ধর্মে কালোজিরা সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন,"মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ঔষধ হচ্ছে কালোজিরা"। সুতরাং সকালে খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবেনা।
অদি কালে যখন চিকিৎসা ব্যবস্থার অতো উন্নতি হয় নি তখন মানুষ প্রকৃতির বিভিন্ন উদ্ভিদ থেকে ঔষধ তৈরি করে অসুখ সারাতো। তখন কার চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল প্রকৃতিক নির্ভর ও ভেজাল মুক্ত। আর আগের মানুষের অসুখ হলে তাড়াতাড়ি সেরে যেত। তাই প্রাকৃতিক ওষুধের কার্যকারিতা অনেক। তেমন কালোজিরারো অনেক ঔষধি গুনাগুন রয়েছে। তাই নিয়মিত যারা কালোজিরা খান তাদের অনেক জটিল ও কঠিন রোগ সারবে এই কালোজিরায়।
তাছাড়া কালোসজিরা খেলে পেট পরিষ্কার হয়। নিয়মিত কালোজিরা খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কালোজিরার ভুমিকা মেলা ভার। কালো জিরাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। যা মানুষের মধ্যে ইমিউনিটি লেবেল বাড়িয়ে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে বহুগুণ।
কালোজিরার সাথে মধু মিশ করে খাওয়ার উপকারিতা
কালোজিরা হচ্ছে সকল রোগের মহৌষধ আর তার সাথে যদি মধু মিশে খাওয়া যায় তবে তার উপকারিতা বহুগুন বেড়ে যায়। আমারা অনেকেই অনেক সময় কোন জিনিস রেখে ভুলে যায় আবার। অনেক বাচ্চা পড়ালেখা মনে রাখতে পারে না। আবার একটা বয়েসের পড় আমাদের শরীরের ইমিউনিটি লেবেল কমতে থাকে এবং স্মৃতি শক্তি হ্রাস পেতে থাকে। এসবের একটি সমাধান কালোজিরার সাথে মধুমিশে খলে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ইমিউনিটি লেবেল বাড়তে থাকে।
তাই যাদের স্মৃতি শক্তি দুর্বল কিছুই মনে রাখেতে পারে না তারা প্রতি দিন কালোজিরা সাথে মধু খেলে অনেক উপকার পাবে। তাছাড়া মধুতে যে সব ভিটামিন থাকে তা আমাদের শরীরে জন্য অনেক কার্যকরী। এছাড়াও কালোজিরার সাথে মধু মিশে খেলে যৌন শক্তিবৃদ্ধি পায়। কারন মানুষের বেচেঁ থাকার জন্য শারীরিক শান্তির মানসিক শান্তির ও বড় প্রয়োজন আছে। কালোজিরার সাথে মধু মিশে খেলে আারও কি কি উপকার পাওয়া যায় তা পয়েন্ট আকারে জানানো হলো :
- কালোজিরার সাথে মধু মিশে খেলে হরমোন লেবেল বাড়তে থাকে।
- কালোজিরার সাথে মধু মিশে খেলে স্ট্রোক এর ঝুঁকি কমে।
- এছাড়াও লিভার ও হার্ট ভালো থাকে।
- যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায়
- মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও কার্যশক্তি বেড়ে যায়।
কালোজিরা খেলে যে সব অসুখ সারে
কালোজিরেতে রয়েছে অনেক ধরনের পুষ্টিগুন। তাই খালি পেটে কালোজিরা খেলে বিভিন্ন ধরনের অসুখ সারে। তাই এখন আমারা জানবো কালোজিরা খেলে কি কি অসুখ সারে। কালোজিরা খেলে অনেক ধরনের রোগ নিরাময় হয় তার মধ্যে উউল্লেখযোগ্য হলো:
১. উচ্চরক্তচাপ কমায় : কালোজিরাতে থাকা ওমেগা ৩ ও ৬ ফ্যাটি এসিড শরীরের কলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে
২. হার্টের অসুখে সারে: যারা নিয়মিত কালোজিরা সেবন করে তাদের হার্ট অ্যাটাক হয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
৩. ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয় : কালোজিরা খেলে খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়, ত্বকের মেস্তা দূর হয় এবং ত্বক মসৃণ থাকে। এছাড়াও কালোজিরা খেলে চুল পড়া কমে এবং খুশকি ভালো হয়।
৪. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে: নিয়মিত কালোজিরা ও মধু খেলে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায়। সারারাত কালোজিরা ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেই কালোজিরা ভিজানো জল মধুমিশিয়ে খেলা ব্রেনের বিকাশ ঘটে।
৫. ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে: কালোজিরা ডায়বেটিস রোগীর জন্য অনেক উপকারী। এটিতে থাকা উপাদান রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। ইনসুলিন এর মাত্রা কমিয়ে ২ টাইপ ডায়বেটিস এর ঝুঁকি কমায়।
৬. ব্যাথা উপশম কারী: যে কোনো ধরনের বাত ব্যাথা উপশম হয় এই ভেসজ গুন সম্পূর্ণ কালোজিরা সেবন করলে।
৭. হজম শক্তি বাড়ে : কালোজিরা প্রতিদিন খেলে হজম শক্তি ভালো হয় কারণ এতে থাকে উন্নত মানেত ফাইবার। তাই এটি খেলে পেট পরিষ্কার থাকে এবং লিভার ভালো থাকে।
৮. সর্দি কাশি ভালো হয়: কালোজিরা খেলে সর্দি কাশি ভালো হয়। ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে গেলে সকালে কালোজিরা ভিজানো জল মধুমিসে খেলে সর্দি- কাশি ভালো হয়।
কালোজিরা খেলে যে সব ক্যান্সার হয় না
কালোজিরা ক্যান্সারের জন্য অনেক উপকারী। যারা নিয়মিত কালোজিরা সেবন করে তাদের কখনো ক্যান্সার হবে না। কালোজিরাকে সর্ব রোগের মহৌষধ বলা হয়। প্রতিদিন কালোজিরা ভিজানো জল সাথে যদি মধুমিশে খাওয়া যায় কিংবা কালোজিরা ভার্তা বা কালোজিরা চিবেয়ে খাওয়া যায় তবে ক্যান্সার হাত থেকে রক্ষ পাওয়া যাবে।
আরো পড়ুন ঃ নিম তেলের উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম
আর বর্তমান সময়ে যেভাবে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ছে তা অনেক চিন্তার বিষয়। কারন ক্যান্সারের ওষুধ এখনো সঠিক ভাবে আবিষ্কার হয় নি। ক্যান্সার হলে যেখানে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা খরচ করেও ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না আর সেখানে মাত্র কয়েক টাকা ক্যান্সার প্রতিরোধে করা যাবে কালোজিরা খাওয়ার মধ্যেমে।
কালোজিরে খেলে যে সব ক্যান্সার প্রতিরোধে হয় সেগুলো হলো:
- বেস্ট ক্যান্সার
- প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার
- সার্রভাইকাল ক্যান্সার
- লাং ক্যান্সার
- প্রোস্টেট ক্যান্সার
- কোলন ক্যান্সার
- স্কিন ক্যান্সার ইত্যাদি।
প্রতি ১০০ গ্রাম কালোজিরাতে যে পরিমান ভিটামিন থাকে
প্রতি ১০০ গ্রাম কালোজিরাতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপাদান গুলো হচ্ছে।
ক্যালরি : ৩৪৫-৩৫০ ক্যালরি
প্রোটিন : ১৭-২১ গ্রাম
চর্বি ( ফ্যাট ) : ৩৫-৪০ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট : ৩৮-৪২ গ্রাম
ফাইবার : ৫-৭ গ্রাম
ভিটামিন এ : ৩৮ আইইউ
ভিটামিন বি১ :
প্রতিদিন যে পরিমাণ কালোজিরা খাওয়া উচিত
খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা অনেক যদি সেটা সঠিক ভাবে ও সঠিক পরিমাণে খাওয়া যায়। কলোজিরা বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় যেমন কালোজিরা ভিজিয়ে, কাচা কালোজিরা চিবিয়ে, কালোজিরা ভরতা করে। আবার কালোজিরার তেল ও হয়ে থাকে। কালোজিরার তেল কনেক উপকারী। প্রতিদিন নিদিষ্ট সময় করে কালোজিরা খাওয়া উচিত তবে ভালো উপকার হয় যদি খালি পেটে কালো জিরা চিবিয়া বা কালোজিরা ভিজিয়ে খাওয়া যায়।
কালোজিরা ব্রেনের জন্য অনেক উপকারী। কালোজিরা খেলে মস্তিষ্ক ঠান্ডা থাকে এবং ব্রেন কার করে তাড়াতাড়ি। মধু দিয়ে কলোজিরা খেলে স্মরণ শক্তি বাড়ে। আমাদের অনেকের ভুল যাওয়া সভাব থাকে। অনেকেই কোন কিছু মনে রাখতে পারিনা। আবার একটা বয়েসের পর ব্রেন আর কাজ করে না। তখন আমাদের উচিত হবে প্রতি দিন কালোজিরা খাওয়া। প্রতিদিন আমদের উচিৎ ১ চা চামচ বা তার অর্ধেক করে কালোজিরা খাওয়ার। এর বেশি খেলে আমাদের শরীরে বিরুপ প্রভাব পড়তে পাড়ে।
কালোজিরা খাওয়ার অপকারিতা
এই পৃথিবীতে সব কিছুর ভালোর পাশাপাশি কিছু খারাপ দিক ও রয়েছে। আর সেটি হয়ে থাকে মানুষের ব্যবহারের ফলে। আামরা কোন জনিস কি ভাবে ব্যবহার করছি ভালো না খারাপ ভাবে তা আমাদের উপর নির্ভর করে। যেমন গর্ভাবস্থায় কালোজিরা খাওয়া ঠিক নয়। আবার কালোজিরা উচ্চরক্তচাপ রোগীদের জন্য উপকারী হলেও নিম্নরক্তচাপ রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।
যাদের রক্ত চাপ স্বাভাবিক বা প্রায় কম থাকে তাদের ক্ষেত্রে কালোজিরা সেবনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারন কালোজিরাতে থাকা থাইমল ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকেজ করে রক্তচাপ কমিয়ে ফেলতে পারে। তাই নিম্ন রক্তচাপ রোগীদের ক্ষেত্রে কালোজিরা খাওয়ার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় কালোজিরা সেবন সতর্কতা : গর্ভাবস্থায় কালোজিরা না খাওয়ায় ভালো কারণ গর্ভাবস্থায় কালোজিরা খেলে জরায়ুমুখের সংকচোন ঘটতে পারে। তাছাড়া অতিমাত্রায় সেবনে গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকতে পার। তাই এ অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কালোজিরা সেবন করা ঠিক না।
সর্বশেষ খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবেনা। ভেষজ গুণ সম্পূর্ণ এই কালোজিরা উপকারীতা অনেক। আমারা চেষ্টা করেছি কলোজিরার৷ উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে। কালোজিরা সেবন করলে অনেক জটিল ও কঠিন রোগ সেরে যেতে পারে সহজেই। আবার কালোজিরা খাওয়ার ফলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় অনেক।কালোজিরা খেলে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি ইত্যাদি।
আসা করবো আমাদের এই আর্টিকেল টি পড়ে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে কিছুটা হলেও জান তে পেড়েছেন তাই আমাদের এই আর্টিকেল টি যদি ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্য আমাদের এই ওয়েবসাইট টি ফলো করে রাখবেন। কারণ আমাদের এই ওয়েবসাইট আমারা প্রতিনিয়ত এরকম আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।

এএন আইটি কেয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url