হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আজ আমরা জানবো  কি ভাবে হাম রোগ ছড়ায়, হাম রোগের লক্ষণ গুলো কি কি এবং হাম রোগ হলে কী কী করনীয়। আরো জানবো হাম রোগের ঝুঁকি কাদের বেশি। হাম রোগের চিকিৎসা এবং হামের  টিকা কি কি।

হাম-রোগের-লক্ষণ-ও-প্রতিকার

হাম নিয়ে বর্তমানে অনেকে দুশ্চিন্তে রয়েছে কারণ হাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আসুন আমরা জেনে নেয় হাম লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে। হাম রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের আর্টিকেল টি ধৈয্য ধরে পড়ুন।  

 সূচিপত্র : হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার  

হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার 

হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার অনেকে জানতে চায় কারণ ২০২৬ সালে হাম রোগ ব্যপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশর কয়েকটি জেলায় বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর সহ কয়েকটি জেলার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হাম রোগে বেশির ভাগ শিশুরা আক্রান্ত হয়। তাই বাবা - মা রা এ বিষয় নিয়ে চিন্তিত তাই হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের আর্টিকেল টি ধৈয্য ধরে পড়ুন। আপনার জানতে পারবেন কি ভাবে হাম রোগ ছড়ায়, এর প্রাথমিক লক্ষণ গুলো কি কি এবং হাম রোগের চিকিৎসা ও টিকা সমূহ সম্পর্কে। 

হাম হচ্ছে ভাইরাস জনিত সংক্রামক রোগ। এটি হাচি-কাশি, পৃষ্টতল ও বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। হাম রোগের শুরুর আগে অনেক গুলো লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন হঠাৎ করে খুব জ্বর আসে,চোখ লাল হয়ে যায়,  সর্দি কাশি হয়, এবং সর্বশেষ গায়ে ছোট ছোট লাল ফোসা দেখা যায় এগুলো কে আমরা হাম বলে থাকি।মেজলাস নামক এক প্রকার ভাইরাস দ্বারা হাম সংক্রমিত হয়ে থাকে। হাম রোগে বিশেষ করে শিশুর আক্রান্ত বেশি হয়। হাম রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কোন এন্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়নি। তবে টি কার দ্বারা এই রোগ সাড়ে এবং সচেতন দাঁড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। 

হাম রোগের পরিচিতি ও উৎপত্তি 

আম একটি  ভাইরাস জনিত  রোগ। একে রুবেলাও বলা হয়ে থাকে। কারণ এটি মিজেলাস ও রুবেলা নামক ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। হাম শরীরে প্রকাশ হয়ার ৪দিন আগে ও ৪ দিন পরে এটি বেশি ছড়াতে পারে অর্থাৎ সংক্রামন বেশি হয়। এসময় সকলকে সাবধানে থাকতে হবে। হাম মূলত পশুর শরীরে থাকা রুবেলা নামক ভাইরাস থেকে মিউটেশনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়ে থাকে। 


হাম সর্বপ্রথম কোন দেশে প্রথম দেখা যায় সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই তবে। ধারণা করা হয় নব্বই দশকে প্যারিস শহরে এটা দেখা যায়। সর্বপ্রথম বিখ্যাত চিকিৎসক আল রাজি হাম রোগের বর্ণনা দেন। ১৮০০-১৯০০ শতকে হাম রোগ ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশ মহামারী আকারে ধারণ করে। ১-৫  বছরের কম বয়সী শিশু এবং ২০ বছরের বেশি বয়েসের মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকে। 

১৯৬৩ সালে প্রথম হাম রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়। হাম রোগের প্রথম টিকা আবিষ্কার করেন জন এন্ডারস এবং তার দল। তবে প্রথম হাম রোগের কার্যকারী টিকা আবিষ্কার করেন মরিস হিলেম্যান ১৯৬৮ সালে। 

হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণ 

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ হাম রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ দিন দিন এর ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে।  তাই এখুনি জনোসচেতনতা জরুরি হামরোগ  ঠেকাতে। আশা করি আমার আর্টিকেলটি পরে আপনি হাম রোগ ও আম রোগের প্রাথমিক লক্ষণ গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন বিস্তারিত জানতে আমাদের আর্টিকেলটি ধৈর্যধারী পড়ুন। প্রত্যেক রোগের কিছু আলাদা আলাদা  উপসর্গ থাকে। তবে বেশিভাগ রোগের ক্ষেত্রেই জ্বরের উপসর্গ দিয়েই যে কোন রোগের সৃষ্টি হয়। আমরাও গো এর ব্যতিক্রম না। হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো নিজে পয়েন্ট আকার দেখানো হলো :
  • হাম রোগ হওয়ার আগে প্রথমে হারকাপনে জ্বর আসে সেক্ষেত্রে জ্বরের মাত্রা থাকে 104-105 ডিগ্রী।
  • শরীর অস্থির বোধ করে গা হাত ম্যাচ ম্যাচ করে 
  • চোখ ফুলে যায়।চোখ লাল হয়ে যায়। 
  • সর্দি ও কাশি হয়, গলা হালকা ব্যথা করে। 
  • প্রথমের মুখে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয় তারপর পুরো শরীর ছড়িয়ে পড়ে। 

হাম রোগে আক্রান্ত হলে করণীয় 

এখন আমরা হাম রোগের করনীয় সম্পর্কে জানব। হাম রোগ যেহেতু ছোয়াচে রোগ। হাম রোগ  বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছাড়াই। তাই এই রোগ হলে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। কোনো বাচ্চা যদি হাম রোগে আক্রান্ত হয় তবে তাকে বিশেষ সতর্কতার মাধ্যমে রাখতে হবে আর। অন্য স্বাভাবিক বাচ্চাদের থেকে তাকে আলাদা রাখতে হবে। কোনো হাম রোগীকে স্পর্শ করার আগেও পরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে। 


হাম যেহেতু হাঁচি,  কাশির ও বাতাসে মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায় তাই হাম রোগীকে সবসময় মার্কস পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে। এমনকি হাম রোগের জীবাণু পৃষ্ঠতলে আটকে কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। তাই এটি বায়ুর মাধ্যমে দ্রুত ছড়াতে পারে। হাম রোগ চরম পর্যায়ে গেলে  কানে কম শোনা এমনকি মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কেউ যদি হাম রোগে আক্রান্ত হয় তবে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। এবং হাম রোগের টিকা দিতে হবে।

হাম রোগের চিকিৎসাও করণীয়  

হাম রোগের চিকিৎসা করণীয় সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের হাম রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। আর উপরের অংশে আমরা হাম রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছি। কোন বিষয়ে জেনে তার চিকিৎসা নিলে এর উপকার তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। 
  • কোনো বাচ্চা যদি হাম রোগে আক্রান্ত হয় তবে বিশেষ ভাবে যত্ন নিতে হবে। 
  • হাম আক্রান্ত রোগীকে তরল জাতীয় বেশি খাওয়াতে হবে। যেমন ডাব, গ্লুকোজ পানি, পেপে,ইত্যাদি 
  • ভিটামিন- এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
  • হাম আক্রান্ত রোগী নরম বিছানায় শুতে হবে। 
  •  হাম আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত টিকা দিতে হবে। 
  • যেসব রোগে হাম রোগের টিকা পানি, তাদের হাম রোগের টিকার আওতায় আনতে হবে। 
  • যেসব বাচ্চা মায়ের দুধ পান করে তাদের মায়ের দুধ পান করাতে হবে নিয়মিত। 
  • হামে আকান্ত রোগীর যত্ন নেয়ার সময় মাক্স পড়ে থাকতে হবে। 
  • আক্রান্ত রোগীর সেবা করার আগে ও পরে ভালো ভাবে সেভলোন দিয়ে হাত ধুতে হবে। 
রোগীর অবস্থা বুঝে সর্বোপরি ডাক্তার চিকিৎসা নিতে হবে।প্রতিটি বাচ্চাকে টিকার আওতায় আনতে হবে প্রথম ডোজ নয় মাসে হাম - MR (রুবেলা) এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে দিতে হবে। 

হাম রোগ যেভাবে বিস্তার লাভ করে 

হাম রোগ বাতাসের মাধ্যমে ভেসে ভেসে সহজে বিস্তার লাভ করে। হাম রোগের জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে ২-৩  ঘন্টা জীবিত থাকতে পারে। একটি হাম রোগে আক্রান্ত শিশু যদি আর চার পাঁচটি সুস্থ সাধারন শিশুর সাথে মিশে বা খেলা ধুলা করে তবে সেই সুস্থ বাচ্চাগুলো আমি আক্রান্ত হবে।আর যদি বাচ্চার হামের টিকা না দিয়ে থাকে তবে এই রোগ আরো দ্রুত ছাড়াবে।

হাম রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির খাবার-দাবার ঢেকে রাখতে হবে এবং বাসনপত্র ধুয়ে রাখতে হবে। কারণ হাম রোগের  আক্রান্ত কোন ব্যক্তির খাবারে যদি মশা মাছি বসে এবং ওই মশা মাছি কোন সুস্থ মানুষের খাবারে বসে তবে ওই সুস্থ ব্যক্তি ও হাম রোগের দ্বারা আক্রান্ত হবে। হাম রোগ মশা মাছির ম্যাধমেও ছড়াতে পারে।বাংলাদেশের এবছর বাম রোগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। 

২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত হাম রোগে আনুমানিক ৭০০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ শিশু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী। এর আগে ২০১৬ সালে হাম রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশে হাম রোগে মানুষ অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয় কারণ হামলোক একটি ছোঁয়াচে রোগ। হাম রোগের সঠিক টিকা এবং জনসচেতায় হাম রোগের পাদুরভাব কমিয়ে আনতে পারবে। 

শেষকথা হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার 

প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন এবং শান্তির জায়গা ভাবা হয় তার সন্তানদের। হাম রোগ যেহেতু বাচ্চাদের বেশি হয় তাই প্রতিটি বাবা-মা ও সকল অভিভা এই রোগ নিয়ে বেশি আতঙ্কে থাকে। তাই আমরা চেষ্টা করেছি হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে। হাম রোগের কারণে আর যেন মা-বাবাকে তার বুকের ধন হারাতে না হয়। প্রতিবছর আমাদের দেশে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে না পারা এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশুর মৃত্যু ঘটছে।  আমাদের এই আর্টিকেলটা পড়ে আশা করি বুঝতে পারছেন হাম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে। কিভাবে সন্তানের যত্ন নিলে এবং হাম রোগের টিকা  দিলে মরণ এর মুখ থেকে ফিরে আসা যায়।

হাম রোগে আক্রান্ত হলে বাচ্চাকে ভিটামিন এ যুক্ত  খাবার খাওয়াতে হবে যেমন সবুজ শাকসবজি, গাজর, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু ও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের আর্টিকেলে হাম রোগ নিয়ে যতটা পারি আলোচনা করতে আমাদের আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই অন্যদের মাঝে শেয়ার করে অন্যদের এই রোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিন। 






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এএন আইটি কেয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url