প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা

কলা আমরা তো সবাই খাই কিন্তু কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে কয়েকজন সঠিকভাবে জানি।আসুন আজ বিস্তারিত যেনে নিয় কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। কলা তে কি কি ভিটামিন রয়েছে, কলা খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায়, কলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সময় সব জানবো আমাদের এই আর্টিকেল। 

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা

কলা হচ্ছে বহুগুন সম্পূর্ণ একটি সহজলভ্য ফল। এই ফল যত সহজে মানুষ ক্রয় করতে পারে অন্য ফল মানুষ তেমন ক্রয় করতে পারে না কারণ অন্য ফলের চেয়ে কলা দামে অনেক সস্তা।দামে সস্তা হলেও এই ফলের রয়েছে হাজারো গুন। কলার এসব গুনাগুন জানতে আমাদের আর্টিকেল টি ধৈয্য ধরে পড়ুন। 

পোস্ট সূচিপত্র : প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা 

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা 

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। কলা এমন একটি ফল যার মধ্যে একের ভিতর সব গুন রয়েছে। কলা প্রায় সারা দেশে পাওয়া যায়, দামে কম, পুষ্টি গুনে ভরপুর এবং সারা বছর পাওয়া যায়। তাই কলার উপকারীতার কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। তাছাড়া কাচাকলা তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়, কলার মোচা খাওয়া যায়, কলার গাছের ভেতর যে নরম সাদা অংশ থাকে সেটা খাওয়া যায় যেটা আমার কানজাল বলে থাকি। কলা গাছে যেমন বহুরূপী তরকার রয়েছে তেমননী কলার উপকারিতাও বহুরুপী। 

কলাতে রয়েছে কার্বোহাইডেট,পটাশিয়াম,প্রাকৃতিক চিনি ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন। যা আমাদের শরীরে শক্তি যোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন কলা খাওয়ার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ডায়াবেটিসের জন্য ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার অনেক উপকারী। তাছাড়া ওজন কমাতেও বাড়াতে কলা মানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে গেলে হঠাৎ শক্তির প্রয়োজন হলে দু-একটা কলা খেয়ে নিন সাথে সাথে ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। তাৎক্ষণিক শক্তি জগতে কল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

আরো পড়ুন ঃ মধু খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন 

আমরা প্রায় খেলার মাঠে দেখতে পাই খেলোয়াড়রা ফাঁকা সময়ে কিংবা খেলার টী-ব্রেকে কলা খেয়ে থাকে। খেলোয়াররা মূলত তাদের ক্লান্তি দূর করতে ও তাতক্ষণিক শক্তি যোগাতে কলা খেয়ে থাকে। প্রতিদিন একটা কিংবা দুটো  কলা খেলে আপনার শরীরে কনো ভিটামিন এর ঘাটতি হবে না। আর দামে কম হওয়ায় ধনী গরীব সকলে কলা খেয়ে থাকে তাদের ভিটামিন এর চাহিদা মেটাতে পারে সহজেই।  

কলা খেলে যে সব উপকার পাওয়া যায়

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা কথা আলোচনা করবো এখন আমার। কলাতে  অনেক ধরনের পুষ্টি গুন থাকায় কলা খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায় এবং অনেক রোগ সারে। তাই কলা খেলে যে সব উপকার পাওয়া যায় এবং যে সব রোগের নিরাময়ক হিসেবে কাজ করে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে: কলা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক গুণ বেড়ে যায়। কলাতে থাকা ভিটামিন B6 ও ম্যাগনেসিয়াম  শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। 

পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে : এটা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কলার জুরিমেলা ভার। কলাতে থাকা ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখেতে সাহায্য করে। হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং  পেটের প্রদাহ কমাতে ভুমিকা রাখে। তাছাড়া ডায়রিয়া হলে কাঁচা কলা খাওয়া অনেক উপকারী। 
 
রক্তস্বল্পতা কমেতে:  রক্তস্বল্পতা রোধে কলা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। কলাতে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন এর মাত্রা বাড়িয়ে রক্তস্বল্পতা কমায় ও অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি  কমায়। 

হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে : কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা হৃদযন্ত্র ভালোরাখে এবং উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 

শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে : শরীরে হঠাৎ ক্লান্তি অনুভব করলে তাতক্ষনীক শক্তির যোগাতে কলার জুড়ি মেলা ভার। কলাতে বিদ্মান প্রাকৃতিক চিনি যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ আমাদের শরীরে ক্লান্তি দূর করে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে : কলাতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান গুলো মুড ভালো রখতে ও ভালো ঘুমে সাহায্য করে। কলাতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান গুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সেরাটোনিন এ রুপান্তরিত হয়।আর এই সেরাটোনিন আমাদের শরীরে আনন্দদায়ক অনুভুতির সৃষ্টি করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে: পাকা কলাতে TNF-A নামক এক ধরনের যোগ থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিররোধ ক্ষমতা বাড়ায় পাশাপাশি রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাডিয়া ব্লাড ক্যান্সার এর ঝুঁকি কমায়। 

সৌন্দর্য বাড়াতে কলা : তারুণ্য ধরে রাখতে কলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কলাতে থাকা ভিটামিন ইউ ম্যাগনেসিয়াম যৌবন ধরে রাখতে এবং ত্বকের কোলেজন গঠনের সহায়তা করে। এছাড়া কলাতে থাকা অন্যান্য ভিটামিন ও উপাদান ত্বকের কোষকে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে ত্বকের কোষে পানিতে ধরে রেখে ত্বকের উজ্জ্বলতা বারিয়ে তোলে।

ওজন বাড়াতে ও কমাতে : কলা যেমন ওজন বাড়িতে সাহায্য করে তেমনি ওজন কমাতে সাহায্য করে। করাতে ফাইবার বেশি থাকায় কলা খেলে পেট ভরা থাকে বলে কি খিদে কম লাগে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে কলা অধিক পরিমাণে খেলে পেটের চর্বি  বেড়ে যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম কলাতে যে পরিমাণ ভিটামিন থাকে 

কলাতে প্রায় সব ধরনের ভিটামিন থাকে।আপনি যদি প্রতিদিন দু একটা কলা খেতে পারেন তবে আপনাকে বাজার থেকে কোন ভিটামিন এর কোটা কিনে খেতে হবে না। কলাতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন থাকে এখন আমরা দেখবো প্রতি ১০০ গ্রাম কলাতে কি পরিমান ভিটামিন পাওয়া যায়। 

জ্বলিয় অংশ : ৬২.৭ গ্রাম 
চর্বি :০.৭ গ্রাম 
আমিষ:৭.০ গ্রাম
লৌহ : ০.৯ মিলিগ্রাম 
ক্যালসিয়াম:১৩ মিলিগ্রাম 
খণিজ পদার্থ: ০.৯ গ্রাম 
আঁশ : ০.৪ গ্রাম 
ভিটামিন-বি১: ০.১ মিলিগ্রাম 
ভিটামিন-বি২:০.০৫ মিলিগ্রাম 
ভিটামিন সি ২৪ মিলিগ্রাম 
খাদ্য শক্তি : . ০৯ কিলোক্যালোরি 
এছাড়াও কাচা কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

কোন কলাতে কি ভিটামিন রয়েছে 

কলাতে সব ধরনের পুষ্টিগুণ থাকলেও কলার আকৃতি ও ধরণ এর উপর কলার পুষ্টিগুণের কিছুটা ভিন্নতা হতে পারে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের কলা পাওয়া যায়।এসব কলার সাইজ ও স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও সব কলাই থাকে পুষ্টিগুনে ভরপুর। চলুন জানা যাক বিভিন্ন ধরনের কলা সম্পর্কে এবং এগুলোতে কি কি ভিটামিন রয়েছে। 
সপরীকলা: আমাদের দেশে সকল কলার মধ্যে শক্তি খোলা হচ্ছে সবচেয়ে পুষ্টিগুণে ভরপুর। এবং খেতেও সুস্বাদ। এ কলা খেলে শরীরে সকল ধরনের ভিটামিন নিশ্চিত হয়। মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখে এবং মানসিক দক্ষতা বাড়ায়। হজমে সাহায্য করে। 
চম্পা কলা : চম্পা কলা সপরী কলার  চেয়ে তুলনামূলক সস্তা। চম্পা কলা  মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।  চম্পা কলাতে প্রচুর আজ থাকে বলে পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। 


কাঁঠালি কলা: বাত ব্যথা দূর করার জন্য কাঁঠালি কলা অনেক উপকারী। যাদের বাত ব্যথা আছে তারা যদি নিয়মিত কাঁঠালের হয় তবে বাত ব্যথা দূর হয়। কাঁঠালি কলা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। 

সিঙ্গাপুরি কলা : আয়রনে ভরপুর সিঙ্গাপুরি কলা খেলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়। তাই গর্ভাবস্থায় সিঙ্গাপুরি কলা খাও অনেক উপকারী। 

বিচি কলা : বিচহীন কলা খেতে সুস্বাদু হলেও বিচি কলা থাকে পুষ্টিগুণে ভরপুর। বিচিকলা খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। বিচি কলা শরীরের স্বাস্থ্যকর টিস্যু গঠনের সাহায্য করে। এছাড়া বিচি কলা খেলে আমশায় ও আলসার ভালো হয়।
 
সাগর কলা: অনেকের ধারণা সাগর কলাতে তেমন ভিটামিন থাকে না। অনেকে ধারণা করে সাগর কলা খেলে ঠান্ডা লাগে। কিন্তু এ ধারণা মোটেও ঠিক না। সাগর কলা খাওয়ার সাথে ঠান্ডার কোন সম্পর্ক নেই। তাছাড়া সাগর কলা খেলে সাগর কলায় যে ফ্রুক্টোজ  থাকে তা শুক্রানো বৃদ্ধিতে  সাহায্য করে । তবে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা আছে এমন রোগীর সাগর কলা না খাওয়াই ভালো। 

গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা 

একজন সাধারণ মানুষের কলা খেতে যা উপকার হয় গর্ভাবস্থায় কলা খেলে এর চায়ে বেশি উপকার হয়। অবস্থায় কলা খেলে বাচ্চা ও মায়ের দুজনেরই উপকার হয়। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়। গর্ভাবস্থায় কলা খেলে বাচ্চারা হাড় মজবুত হয় মায়ের আয়রন ঘাটতি পূরণ হয়। কলাতে আরও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন থাকে যা গর্ভাবস্থায় একজন মা যদি প্রতি নিয়মিত কলা খায় তবে বাচ্চা-মা দুজনের জন্য অনেক উপকার হয়। 
  1. আমরা অনেক সময় আমরা দেখি গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে অনেকেরই কিছু খেতে গেলে খেতে পারে না। বমি বমি ভাব হয়  এদের জন্য কলা খাওয়া অনেক উপকারী। কারণ কলাতে থাকে  B6 যা গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব বা মর্নিং সিকনেস দূর করতে ভুমিকা রাখে। 
  2. অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে যা গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের জন্য অনেক কষ্টকর। প্রতিদিন নিয়মিত কলা খেলে এই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।কারণ কলাতে থাকে ডায়েটারি ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে। 
  3. একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীরে প্রচুর পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্তের  চাহিদা মেটাতে কলা খাওয়া খুব জরুরী। কারণ কলাতে থাকা আইরন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে রক্তস্বল্পতার ঝুড়ি কমায়। 
  4. গর্ভাবস্থায় আরো একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে তরল গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণ তরলের প্রয়োজন হয়। আর কলাতে থাকা পটাশিয়াম তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এবং উচ্চ রক্তচাপের নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। 
  5. কলাতে থাকে ফলিক এসিড যা শিশুর মস্তিষ্ক ও করোটিন গঠনে ভূমিকা রাখে। তাই একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন কলা খাওয়া অনেক উপকারী।
তবে সতর্কের বিষয় হচ্ছে কেও যদি ডায়াবেটিস অবস্থায় গর্ভবতী হয়ে থাকে তবে তাকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কলা খেতে হবে। কারন কলাতে থাকা অতিরিক্ত পটাশিয়াম গর্ভাবস্থায় ক্ষতির কারণ হতে পারে। 

কলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম কানুন 

কলা একটি সহজ লভ্য ফল হওয়ায় আমরা প্রতিদিন প্রায় সকলে কলা খেয়ে থাকে। কিন্তু কলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম কানুন না জানার ফলে এর উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হয়। কলা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী একটি ফল। কিন্তু এর সঠিক পুষ্টি গুন কোন নিশ্চিত করার জন্য সঠিকভাবে কলা খেতে হবে। সকালে খাওয়ার পর কিংবা দুপুরে খাওয়ার আগে কলা খাওয়া উপযুক্ত সময়। বিকেলের নাস্তা হিসাবে ও  কলা খাওয়া যেতে পারে। 

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা

তবে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং সকালে খালি পেটে কলা খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। কারণ সকালে খালি পেটে কলা খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়। খালি পেটে কলা খেলে কলাতে থাকে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম শরীরের  ভারসাম্য নষ্ট করে এবং হজমে সমস্যা তৈরি করে। ব্যামাই করার ৩০ মিনিট আগে বা পরে কলা খাওয়া অনেক উপকারী। এ সময় কলা খেলে শরীরে তাড়াতাড়ি শক্তি যোগায় এবং ক্লান্তি দূর করে। খালি পেটে কলা না খেয়ে কোনো কিছুর সাথে কলা খাওয়া অনেক উপকারী।

 যেমন সকালবেলা রুটির বা ওডস এর সাথে কলা খাওয়া যেতে পারে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কলা না খাওয়ায় ভালো। রাতের বেলা কলা খেলে ঠান্ডার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। একজন  সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্য দিনে একটা থেকে দুইটা  কলা খাওয়া উচিত। যাদের ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যা আছে তাদের অতিরিক্ত কলা না খাওয়া উচিত। তাছাড়া কলা খেলেও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কলা খেতে হবে।  নতুবা শরীরে বিরুপ প্রভাব  পড়তে পারে। 

কলা খাওয়ার অপকারিতা

কলা খাওয়ার অনেক উপকার থাকা সত্যেও পরিমান মতো কলা না খেলে এর কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। আমাদের শরীরে স্বাভাবিক যে ভিটামিন এর লেবেল রয়েছে কলা খাওয়ার পর এর মাত্রা যদি বেড়ে যায় তবে আমাদের শরীরে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে থাকে। এখন আমরা দেখবো কলা খাওয়ার পর আমাদের শরীরে কি কি বিরূপ প্রভাব পড়ে অর্থাৎ কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। 
  • কলাতে থাকে অতিরিক্ত ক্যালরি যা আমাদের শরীরের ওজন বাড়িতে সাহায্য করে। আর অতিরিক্ত ওজন  শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
  •  পাকা কলাতে প্রাকৃতিক চিনি অর্থাৎ গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ বেশি থাকায় রক্তের সুগার লেভেল বাড়িয়ে তোলে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পাকা কলা বেশি খাওয়া ঠিক নয়। 
  • তাছাড়া কলাতে রেজিস্টান্ট স্টার্চ থাকে এবং প্রচুর পরিমাণ আশ থাকে যা হজমে সমস্যা করে এবং বদহজম তৈরি করে।
  •  কলাতে থাকা পটাশিয়াম হার্ট এর জন্য ভালো কিন্তু অতিরিক্ত পটাশিয়াম কিডনি রোগীদের জন্য মারাত্মক বিপদজনক। 
  • তাছাড়া শরীরে শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে পটাশিয়াম মাত্র বেড়ে যাওয়া কে  হাইপারক্যালামিয়া বলে। এর ফলে শরীরের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হৃদস্পন্দন নিয়মিত হতে থাকে। 
  • যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তাদের কলা বুঝে শুনে খাওয়া উচিত। কলাতে থাকে টায়রামিন নামক এক ধরনের উপাদান যা মাইগ্রেন সমস্যা বাড়িয়ে তুলে। 

সর্বশেষ: প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা 

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আমরা তুলে ধরেছি কলার বিভিন্ন উপকারিতা ও কলা খাওয়ার নিয়ম এবং এর কিছু ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে। আমরা আরও আলোচনা করেছি কোন গলাতে কি পরিমানে ভিটামিন রয়েছে সেসব সম্পর্কেও। কলা একটি সাধারন ফল হলেও এর  গুণ অকল্পনীয় এবং  কলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক।কলাতে যে পরিমাণ পুষ্টিগণ রয়েছে তা যদি একজন মানুষ সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করে তবে তাকে কোন ওষুধ খেতে হবে না। কলা খেলে হার্ট ভালো থাকে, কিডনির সমস্যা দূর হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, চেহারার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। 
 
প্রিয় পাঠক এই রকম আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমাদের পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন। কারণ আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জিনিসের উপকারী পিক তুলে ধরার চেষ্টা করি আমাদের আর্টিকেলের মাধ্যমে। আমাদের আর্টিকেল পড়ে উপকৃত হয়ে থাকলে অন্যদের মাঝে শেয়ার করে উন্নত জানার সুযোগ করে দিন। লেখার মধ্যে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। 







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এএন আইটি কেয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url